কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ৬ অভ্যাস

কোষ্ঠকাঠিন্য কি ?

কোষ্ঠকাঠিন্য হল একটি অস্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা যখন একজন ব্যক্তি সহজে মলত্যাগ করতে সক্ষম হন না। সাধারণত: এক-দুই দিন পরপর মলত্যাগের বেগ হওয়া এবং শুষ্ক ও কঠিন মল নিষ্কাশন কোষ্ঠকাঠিন্য বলে পরিচিত।

ডাক্তারদের মতে কেউ যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করার পরও প্রতি সপ্তাহে তিনবারের কম পায়খানায় যায় তখনই এই অবস্থাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। এ অবস্থায় পায়খানায় দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও মল পরিষ্কার হয় না।

মল নরম করতে অনেকসময় রোগী জোলাপ ব্যবহার করেন। রোগীরা যতগুলো জোলাপ নেয় তার মধ্য Actilac খুব জনপ্রিয়। ডাক্তার বলেন যে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তা সারাই করার পরিবর্তে কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সেভাবে চলাই শ্রেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলি হল:

  • সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ
  • মলত্যাগে কষ্ট
  • মল শক্ত ও শুষ্ক
  • মলত্যাগের পরেও মলত্যাগের অপূর্ণতা বোধ
  • পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • পেটে গ্যাস
  • পেট ফোলা

কোষ্ঠকাঠিন্য বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন:

  • খাদ্যাভ্যাসে আঁশের অভাব
  • পর্যাপ্ত পানি পান না করা
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • কিছু শারীরিক সমস্যা, যেমন: হাইপারথাইরয়েডিজম, ডায়াবেটিস, মূত্রনালীর সংক্রমণ, প্রোস্টেট সমস্যা, মলাশয়ের ক্যান্সার

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত নিয়মগুলি অনুসরণ করুন:

  • প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন, বিশেষ করে পানি।
  • প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খান, যেমন: শাকসবজি, ফল, ওটস, পুরো শস্যের রুটি।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে, প্রথমে ঘরোয়া প্রতিকারগুলি চেষ্টা করুন। ঘরোয়া প্রতিকারগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা, বিশেষ করে পানি।
  • আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা।
  • মলত্যাগের জন্য সময় নিয়োগ করা এবং মলত্যাগের চেষ্টা করার সময় টেনশন না করা।

ঘরোয়া প্রতিকারগুলি কাজ না করলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা দিতে পারেন।

প্রতিদিন প্রচুর পানি ও তরল এবং যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার খান

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন প্রচুর পানি ও তরল এবং যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পানি এবং আঁশ হল স্বাস্থ্যকর পাচনতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য দুটি উপাদান। পানি মলকে নরম এবং সহজে বের করে দিতে সাহায্য করে, যখন আঁশ মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং মলকে আরও নরম করে তোলে।

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা

প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। আপনি যদি পানি পান করতে না পারেন তবে আপনি ফলের রস, চা, কফি বা অন্যান্য তরল পান করতে পারেন। তবে, ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলি কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও খারাপ করতে পারে।

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া

প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫-৩৮ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে:

  • শাকসবজি, যেমন: সবুজ শাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, গাজর, আলু
  • ফল, যেমন: আপেল, কলা, আঙ্গুর, তরমুজ
  • পুরো শস্যের খাবার, যেমন: ওটস, ব্রাউন রাইস, বাদামী চাল, পুরো শস্যের রুটি

আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তবে আপনার ডাক্তার আপনাকে আরও বেশি আঁশ গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দিতে পারেন।

আঁশযুক্ত খাবারের কিছু উদাহরণ

  • শাকসবজি: সবুজ শাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, গাজর, আলু, বেগুন, টমেটো, মটরশুঁটি, শিম
  • ফল: আপেল, কলা, আঙ্গুর, তরমুজ, কমলা, লেবু, আনারস, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি
  • পুরো শস্যের খাবার: ওটস, ব্রাউন রাইস, বাদামী চাল, পুরো শস্যের রুটি, পুরো শস্যের পাস্তা, পুরো শস্যের কুকিজ

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে আঁশ এবং পানি পানের উপকারিতা

আঁশ এবং পানি পান কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে কারণ এগুলি:

  • মলকে নরম এবং সহজে বের করে দিতে সাহায্য করে
  • মলের পরিমাণ বাড়ায়
  • মলদ্বারকে মলকে বের করে দেওয়ার জন্য আরও সহজ করে তোলে

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয়

আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তবে প্রথমে ঘরোয়া প্রতিকারগুলি চেষ্টা করুন। ঘরোয়া প্রতিকারগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা, বিশেষ করে পানি
  • আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা
  • মলত্যাগের জন্য সময় নিয়োগ করা এবং মলত্যাগের চেষ্টা করার সময় টেনশন না করা

ঘরোয়া প্রতিকারগুলি কাজ না করলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা দিতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে আরও কিছু টিপস

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম মলত্যাগকে সহজ করে তোলে।
  • প্রতিদিন একই সময়ে মলত্যাগের জন্য বসে থাকুন। এটি আপনার মলত্যাগকে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে।
  • মলত্যাগের চেষ্টা করার সময় টেনশন করবেন না। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও খারাপ করতে পারে।
  • যদি আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ গ্রহণ করেন তবে আপনার ডাক্তারের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।

এই টিপসগুলি অনুসরণ করে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর পাচনতন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারেন।

দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করুন

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ পাচনতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপের কারণে মলত্যাগকে প্রভাবিত করার কয়েকটি উপায় রয়েছে:

  • দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ মলদ্বারকে সংকুচিত করতে পারে, যা মলত্যাগকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
  • দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ মলত্যাগের জন্য মস্তিষ্কের সংকেতগুলিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
  • দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ মলত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় পেশীগুলির সংকোচনকে দুর্বল করতে পারে।

দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে বেশ কয়েকটি জিনিস করা যেতে পারে:

  • যোগব্যায়াম, ধ্যান বা অন্যান্য শিথিলকরণ কৌশল অনুশীলন করুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিন।
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • সময়সূচীতে থাকুন এবং নিয়মিত সময়ে খাবার খান।
  • মলত্যাগের জন্য একই সময়ে বসে থাকুন।

আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তবে দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের কারণে এটি হতে পারে কিনা তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি মনে করেন যে দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে, তবে আপনি একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন। ডাক্তার আপনাকে দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ পরিচালনা করতে সাহায্য করার জন্য কিছু পরামর্শ বা ওষুধ দিতে পারেন।

এখানে দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে কিছু নির্দিষ্ট টিপস রয়েছে:

  • আপনার দুশ্চিন্তার কারণগুলি চিহ্নিত করুন। আপনি কি কাজের চাপ, আর্থিক সমস্যা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কিছু নিয়ে উদ্বিগ্ন? একবার আপনি আপনার দুশ্চিন্তার কারণগুলি চিহ্নিত করলে, আপনি সেগুলি মোকাবেলা করার উপায়গুলি খুঁজে পেতে শুরু করতে পারেন।
  • আপনার দুশ্চিন্তাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করুন। আপনার দুশ্চিন্তাগুলির সাথে যুক্ত নেতিবাচক চিন্তাভাবনাগুলি কী? আপনি কি মনে করেন যে আপনি ব্যর্থ হবেন, বা অন্যরা আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হবে? এই নেতিবাচক চিন্তাভাবনাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করুন এবং তাদের আরও বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখুন।
  • আপনার আবেগগুলিকে প্রকাশ করুন। আপনার দুশ্চিন্তাগুলিকে আটকে রাখবেন না। আপনার বন্ধু, পরিবার বা থেরাপিস্টের সাথে কথা বলুন। আপনার আবেগগুলিকে প্রকাশ করা আপনাকে তাদের সাথে আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে সাহায্য করতে পারে।
  • আপনার জীবনে ইতিবাচক জিনিসগুলির উপর ফোকাস করুন। আপনার জীবনে যা ভালো চলছে তার উপর ফোকাস করুন। এটি আপনাকে আপনার দুশ্চিন্তাগুলিকে আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে সাহায্য করতে পারে।

যদি আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের সাথে লড়াই করছেন, তবে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। একজন ডাক্তার বা থেরাপিস্ট আপনাকে এই সমস্যাগুলি পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে।

যত দূর সম্ভব মল চেপে না রাখার অভ্যাস করা

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে যত দূর সম্ভব মল চেপে না রাখার অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। মল চেপে রাখা মলকে আরও শক্ত এবং মলত্যাগকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

মল চেপে রাখার ফলে যে সমস্যাগুলি হতে পারে সেগুলি হল:

  • মলত্যাগ কঠিন হওয়া
  • মলত্যাগের সময় ব্যথা হওয়া
  • মলত্যাগের পরে অপূর্ণতা বোধ হওয়া
  • পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি হওয়া
  • পেট ফোলা হওয়া

মল চেপে না রাখার জন্য কিছু টিপস হল:

  • মলত্যাগের ইচ্ছা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মলত্যাগের জন্য বসে যান।
  • মলত্যাগের চেষ্টা করার সময় টেনশন করবেন না।
  • মলত্যাগের সময় আপনার পেশীগুলি শিথিল করুন।

যদি আপনি মল চেপে রাখার অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে চান তবে আপনি একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন। ডাক্তার আপনাকে এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে সাহায্য করার জন্য কিছু পরামর্শ বা চিকিৎসা দিতে পারেন।

এখানে মল চেপে না রাখার জন্য কিছু নির্দিষ্ট টিপস রয়েছে:

  • আপনার শরীরের সংকেতগুলি শুনুন। আপনার মলত্যাগের ইচ্ছা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মলত্যাগের জন্য বসে যান। যদি আপনি মলত্যাগের চেষ্টা করেন তবে তা ব্যর্থ হতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও খারাপ করতে পারে।
  • মলত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন। প্রতিদিন একই সময়ে মলত্যাগের জন্য বসে থাকুন। এটি আপনার মলত্যাগকে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে।
  • মলত্যাগের জন্য একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন। মলত্যাগের জন্য একটি নিরাপদ এবং গোপনীয় জায়গা বেছে নিন। আপনি যদি চান তবে আপনি মিউজিক বা অন্যান্য শিথিলকরণ কৌশল ব্যবহার করতে পারেন।

মল চেপে না রাখার অভ্যাসটি ত্যাগ করা কঠিন হতে পারে, তবে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর পাচনতন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ইসবগুলের ভুসি অ্যালোভেরা

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ইসবগুলের ভুসি এবং অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইসবগুলের ভুসি

ইসবগুলের ভুসি হল একটি প্রাকৃতিক আঁশ যা মলকে নরম এবং সহজে বের করে দিতে সাহায্য করে। ইসবগুলের ভুসিতে অদ্রবণীয় এবং দ্রবণীয় উভয় ধরণের আঁশ রয়েছে। অদ্রবণীয় আঁশ মলকে বৃদ্ধি করে এবং এটিকে মলদ্বার দিয়ে বের করে দেওয়া সহজ করে তোলে। দ্রবণীয় আঁশ মলের পানি শোষণ করে এবং এটিকে নরম করে তোলে।

ইসবগুলের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করার পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধাও প্রদান করে। এটি কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে।

ইসবগুলের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করার জন্য, প্রতিদিন 1-3 টেবিল চামচ ইসবগুলের ভুসি পানি বা অন্যান্য তরল পানীয় দিয়ে মিশিয়ে খাওয়া উচিত। ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার পরে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা একটি ভেষজ যা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যার মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যও রয়েছে। অ্যালোভেরাতে মলকে নরম করতে এবং মলত্যাগকে সহজ করতে সাহায্য করে এমন বিভিন্ন উপাদান রয়েছে।

অ্যালোভেরা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করার জন্য, প্রতিদিন 1-2 চা চামচ অ্যালোভেরা জেল খাওয়া উচিত। অ্যালোভেরা জেল খাওয়ার পরে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইসবগুলের ভুসি এবং অ্যালোভেরা উভয়ই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে কার্যকর হতে পারে। তবে, আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভাল তা আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে।

আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তবে ইসবগুলের ভুসি বা অ্যালোভেরা গ্রহণ করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ডাক্তার আপনাকে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারেন এবং আপনার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন।

কিছু কিছু ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী

কিছু কিছু ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী হতে পারে। এই ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ব্যথানাশক ওষুধ যেমন আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন, এবং ন্যাপ্রোক্সেন। এই ওষুধগুলি পাচনতন্ত্রের মসৃণ পেশীগুলিকে শিথিল করতে পারে, যা মলত্যাগকে কঠিন করে তুলতে পারে।
  • অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট যেমন ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং সিলেক্টিভ সেরোটোনিন পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধক (SSRIs)। এই ওষুধগুলি পাচনতন্ত্রের আন্দোলনকে ধীর করতে পারে।
  • ক্যালসিয়াম এবং আয়রন সম্পূরক। এই সম্পূরকগুলি মলের ঘনত্ব বাড়াতে পারে, যা মলত্যাগকে কঠিন করে তুলতে পারে।
  • অন্যান্য ওষুধ যেমন ওষুধ যা উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাসিডিটি, এবং পার্কিনসন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন এবং আপনি বর্তমানে কোনও ওষুধ সেবন করছেন তবে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ডাক্তার আপনার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন এবং আপনার জন্য সেরা চিকিত্সা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে, আপনি নিম্নলিখিত টিপসগুলি অনুসরণ করতে পারেন:

  • প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন, বিশেষ করে জল।
  • প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খান, যেমন শাকসবজি, ফলমূল, এবং গোটা শস্য।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • মলত্যাগের ইচ্ছা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মলত্যাগের জন্য বসে যান।

পরিশ্রম না করার কারণে

পরিশ্রম না করার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। ব্যায়াম পাচনতন্ত্রের আন্দোলন উন্নত করতে সাহায্য করে। যখন আপনি ব্যায়াম করেন, তখন আপনার পাচনতন্ত্রের পেশীগুলি সংকুচিত হয়, যা পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার এবং বর্জ্য পদার্থকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

পরিশ্রম না করার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার কয়েকটি কারণ হল:

  • পাচনতন্ত্রের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে যায়। যখন আপনি ব্যায়াম করেন না, তখন আপনার পাচনতন্ত্রের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে যায়। দুর্বল পেশীগুলি পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার এবং বর্জ্য পদার্থকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী হয় না।
  • পাচনতন্ত্রের আন্দোলন ধীর হয়ে যায়। যখন আপনি ব্যায়াম করেন না, তখন আপনার পাচনতন্ত্রের আন্দোলন ধীর হয়ে যায়। এটি পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার এবং বর্জ্য পদার্থকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে।
  • মল শক্ত হয়ে যায়। যখন পাচনতন্ত্রের আন্দোলন ধীর হয়ে যায়, তখন মল শক্ত হয়ে যায়। শক্ত মলত্যাগ করা কঠিন এবং ব্যথার কারণ হতে পারে।

পরিশ্রম না করার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে, নিয়মিত ব্যায়াম করা গুরুত্বপূর্ণ। 18 বছর বয়স এবং তার বেশি বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত 150 মিনিট মাঝারি-তীব্রতার কার্ডিও বা 75 মিনিট উচ্চ-তীব্রতার কার্ডিও করা উচিত। এছাড়াও, প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তি প্রশিক্ষণ করা উচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে, আপনি নিম্নলিখিত টিপসগুলিও অনুসরণ করতে পারেন:

  • প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন, বিশেষ করে জল। তরল পান করা মলকে নরম করতে সাহায্য করে।
  • প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খান, যেমন শাকসবজি, ফলমূল, এবং গোটা শস্য। আঁশ মলকে নরম করতে এবং মলত্যাগকে সহজ করতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম পাচনতন্ত্রের আন্দোলন উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • মলত্যাগের ইচ্ছা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মলত্যাগের জন্য বসে যান। মলত্যাগের ইচ্ছা চেপে রাখা কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও খারাপ করতে পারে।

যদি আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তবে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ডাক্তার আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ নির্ণয় করতে এবং আপনার জন্য সেরা চিকিত্সা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *